শিশুকে স্কুলে দেয়ার প্রস্তুতি

শিশুকে স্কুলে দেয়ার প্রস্তুতি

আজকাল শিশুদের বয়স তিন কিংবা সাড়ে তিন বছর হলেই স্কুলে ভর্তির জন্য অভিভাবকদের ছুটাছুটি শুরু হয়। এ বয়সী অনেক শিশুরই প্রথম দিকে স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সমস্যা হয়। একারণে শিশুকে স্কুলে দেয়ার আগে তাদের কিছু মানসিক প্রস্তুতির দিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখা দরকার।

বছর শেষ হতে খুব বেশি দেরি নেই। যেসব পিতা মাতা তাদের সন্তানকে আগামী বছরের শুরুতেই স্কুলে দেয়ার কথা ভাবছেন সন্তানের পাশাপাশি তাদেরও এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার।মনে রাখবেন, যদি বাবা-মা স্কুলের ব্যাপারে শিশুকে ইতিবাচক ধারনা দেন, ভালভাবে বোঝান তাহলে শিশুর মধ্যেও স্কুল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা তৈরি হবে। 

যেহেতু সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা পরিবেশে শিশুদের দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় একা থাকতে হবে একারণে তাদের মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে আলাদা হওয়ার একটা দুশ্চিন্তা থাকতেই পারে। একই অবস্থা হতে পারে অভিভাবেকেরও। কিন্তু এই সময় অভিভাবকদের নিজেদের উৎকণ্ঠার কথা শিশুকে জানানো উচিত নয়। বরং তার সঙ্গে কথা বলে স্কুল নিয়ে সে কি ভাবছে তা ভালভাবে জানা দরকার। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলে কিংবা বুঝলে তারাও নিজেদের কথা বাবা-মাকে বলতে স্বাচ্ছদ্য বোধ করবে। 

একাডেমিক শিক্ষা শুরু হলে শিশু যাতে ঘাবড়ে না যায় এজন্য দেড় -দুই বছর বয়স থেকেই আস্তে আস্তে বিভিন্ন রং,বাংলা ও ইংরেজি বর্ণের সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করানো উচিত অভিভাবকদের। বাজারে কিন্তু শিশুদের জন্য নানা ধরনের ছবিসহ বই পাওয়া যায়। সেগুলো দিয়েই শিশুদের বিভিন্ন ফল, ফুল, পশু, পাখির সঙ্গে পরিচয় করানো যেতে পারে। শিশুর সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলতে হবে। তাহলে তার কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

কম্পিউটারে দেখেও শিশুরা অনেক কিছু শিখতে পারে। স্কুল পূর্ববর্তী শিক্ষা দিতে শিশুর জন্য ছড়া, সংখ্যা, অক্ষরের বিভিন্ন সিডি কিনে রাখতে পারেন কিংবা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোডও করতে পারেন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেগুলো তাকে দেখালে আনন্দের সাথেই সে অনেক কিছু শিখতে পারবে।

তবে শুধু বই কিংবা কম্পিউটার নয়, শেখানোর জন্য মাঝেমধ্যে শিশুকে বাইরেও নিয়ে যাওয়া দরকার। বইয়ে বা ভিডিওতে যেসব জিনিস সে দেখেছে সেগুলো যদি দোকান, চিড়িয়াখানা কিংবা পার্কে দেখতে পায় তাহলে তার শেখার আগ্রহ অনেক বেড়ে যাবে।

স্কুল শুরু আগ দিয়ে শিশুর ঘুমানোর সময়টা নির্দিষ্ট করুন এমনভাবে যাতে কমপক্ষে সে দশ ঘণ্টা ঘুমাতে পারে। যে স্কুলে শিশুটিকে ভর্তি করাতে চাইছেন সম্ভব হলে ভর্তির আগে সেই স্কুলে তাকে নিয়ে যান। ক্লাস রুম, শিক্ষক, আয়াদের সঙ্গে তাকে পরিচিত করান। তাহলে সে হঠাৎ করে গিয়ে ভয় পাবে না।

প্রথম দিন শিশুকে স্কুলে দিয়ে তার মতো আপনারও উৎকণ্ঠায় কাটবে, এটাই স্বাভাবিক। নিরাপত্তার জন্য তাকে নিজের নাম, বাবার নাম, বাবা-মায়ের ফোন নাম্বার এগুলো আগে থেকেই শেখানো উচিত।

শিশুকে কিছু শব্দ শব্দ যেমন- কেউ কিছু দিলে ধন্যবাদ বা থ্যাংক ইউ বলা, কোন ভুল করলে সরি, গুড মর্নিং, গুড আফটারনুন, গুড নাইট এগুলো শেখানো যেতে পারে।

স্কুলিং শুরু হওয়া মানে শিশুর জীবরে নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু হওয়া। যার পরিধি অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। তার জীবনের নতুন এই অধ্যায় শুরুর আগে তাই তাকে সহজ হতে সাহায্য করুন। আপনিও যে তাকে মিস করবেন এটা তাকে জানিয়ে রাখুন। তবে অতি আদর কখনোই ভাল নয় আপনার শিশুর জন্য। তাই স্কুল শুরু হওয়া মানে নতুন আর উত্তেজনাপূর্ণ অনেক কিছু তার জীবনে যোগ হতে যাচ্ছে -এটাই তাকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে। 

সূত্র : হাফিংটনপোষ্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here